৩রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, রবিবার, রাত ৯:৪৭
ব্রেকিংনিউজ :

পুলিশের চেষ্টায় দুই সন্তানের সন্ধান পেলেন ইদ্রিস আলী

সবারকন্ঠ রিপোর্ট
  • আপডেট : এপ্রিল, ১৭, ২০২২, ২:৪০ পূর্বাহ্ণ
  • ১০৪ ০৯ বার দেখা হয়েছে
পুলিশের চেষ্টায় দুই সন্তানের সন্ধান পেলেন ইদ্রিস আলী

একটি ফোন কলের সূত্র ধরেই দিনাজপুর থেকে মায়ের সাথে ফতুল্লায় চলে আসা ইতি (৯) ও মিম (৫)’র সন্ধান পেয়েছেন পুলিশ। শনিবার বিকেলে ফতুল্লা থানার মুসলিমনগরস্থ নানির হেফাজত থেকে ইতি ও মিমকে উদ্ধারসহ নানিকে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে রিক্সাচালক বাবা ইদ্রিস আলী বিকেলেই থানায় ছুটে আসেন। থানা কম্পাউন্ডে মেয়ে দুটোকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন বাবা ইদ্রিস আলী।

 

এ নিয়ে রাতেই ফতুল্লা থানার কন্ফারেন্স রুমে সংবাদ সম্মেলন করেন নারায়নগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার “ক” সার্কেল নাজমুল হাসান জানান, ২০২১ সালে ইদ্রিস আলী বাড়ীতে না থাকায় তাট স্ত্রী দুই কন্যা ইতি ও মিম কে নিয়ে দিনাজপুর জেলার কাহালু থেকে নারায়নগঞ্জে চলে আসে।

 

এতে করে বাবা ইদ্রিস আলী দিশেহারা হয়ে মেয়েদের খোঁজে বিভিন্ন শহরের অলি গলিতে রিক্সা চালিয় মেয়েদের খোঁজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে সে চলে আসে নারায়নগঞ্জে।

 

নারায়নগঞ্জের বিভিন্ন অলি গলিতে রিক্সা চালিয়ে খোঁজ করতে গিয়ে গণ মাধ্যম কর্মীদের সাথে তার দেখা হলে তা গণমাধ্যম পত্রিকা ও টিভিতে প্রচার পায়। পরে দুই সাংবাদিকের মাধ্যমে সে থানায় এলে তাকে ফতুল্লা থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করতে বললে সে ১০ তারিখে সাধারন ডায়েরী করেন।

 

এর সূত্র ধরে ফতুল্লা থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান,সাধারন ডায়েরীর  তদন্তকারী কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম কাজ করতে শুরু করে। তিন পূর্বে একটি ফোন কলের সূত্র ধরে পুলিশ জানতে পারে যে মেয়ে দুটো ফতুল্লার মুসলিমনগর এলাকায় অবস্থান করছে।

 

পরে শনিবার বিকেলে সাধারন ডায়েরীর তদন্তকারী কর্মকর্তা ফতুল্লা মডেল থানার উপপরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম মুসলিম নগর এলাকা থেকে মেয়ে দুটোকে তার নানীর বাসা থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

 

মেয়ে দুটোকে কার হেফাজতে দেয়া হবে  সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নাজমুল হাসান বলেন, আগামীকাল এ বিষয়ে তারা আদালতের শরনাপন্ন হবেন। আদালত এ বিষয়ে নির্ধারন করবেন মেয়ে দুটো কার কাছে দিবেন।

 

 প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন ফতুল্লা থানার ইনচার্জ রকিবুজ্জামান, ওসি (তদন্ত) তরিকুল ইসলাম, সাধারন ডায়েরীর তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম।

 

মেয়ে দুটোর নানি আকলিমা জানায়, দশ বছর পূর্বে তার মেয়ের শাহানাজের সাথে  বিয়ে হয়। তিনি তার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে ফতুল্লার মুসলিম নগরে এসে একটি গার্মেন্টসে চাকুরী নেয় এবং এখানেই বসবাস শুরু করে। স্বামীর সাথে বনিবনা হওয়ায় দুই বছর পূর্বে তার মেয়ে দুই  নাতনি ইতি এবং মিম কে নিয়ে ফতুল্লার মুসলিমনগর তার এখানে চলে আসে।

 

 এখানে এসে গার্মেন্টেসে চাকুরী নেয়। এক বছর পূর্বে তার মেয়ে স্বামীকে ডিভোর্স দেয়। এবং দু মাস পূর্বে তার মেয়ে ইতি ও মিম কে তার নিকট রেখে বিদেশ চলে যায়। আজ পুলিশ গিয়ে তাকেসহ তার দুই নাতনী কে থানায় নিয়ে এসেছে।

 

ইদ্রিস আলী বলেন, দুই মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার ছিলো। কৃষিকাজের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে ঢাকায় এসে নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। আশা ছিল মেয়েদের পড়াশোনা করিয়ে ভালো জায়গায় বিয়ে দিবেন। কিন্তু স্ত্রীর উচ্চাকাঙ্ক্ষায় কোনো এক দালালের খপ্পরে পড়ে নিশ্চিহ্ন হয়ে পড়ে তার সংসার।

 

দুই মেয়েকে বুকে জড়িয়ে তিনি বলেন, তিনি তার মেয়েদের কে সঙ্গে করে নিয়ে যেতে চান। সেখানে নিয়ে গিয়ে তার মেয়েদেরকে সেখানে নিয়ে গিয়ে স্কুল বা মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে পড়ালেখা শেখাবেন।

 

তিনি ফতুল্লা পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারের নিকট অনুরোধ করেন যাতে করে তার নিকট মেয়েদের কে বুজিয়ে দেয়া হয়।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করে সবাই কে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের আরো খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত  © ২০২১ সবার কন্ঠ
Design & Developed BY:Host cell BD
ThemesCell