fbpx
২৯শে নভেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ, বুধবার, সকাল ৭:৫৯

পরীমনির মামলার তদন্তকে কেন্দ্র করে ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইল করছে একটি চক্র: পুলিশ কমিশনার

বিনোদন ডেস্ক
  • আপডেট : আগস্ট, ১১, ২০২১, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
  • ২৮৬ ০৯ বার দেখা হয়েছে

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নায়িকা পরীমনি ও সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া আরো দুএকজন মডেলের মামলার তদন্তের সুযোগে একটি চক্র কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে ঢাকার পুলিশ কমিশনার বলেছেন, ‘ভীতসন্ত্রস্ত’ হয়ে কয়েকজন ওই চক্রকে টাকাও দিয়েছেন।

এই চক্রে পুলিশের সদস্য এবং গণমাধ্যমকর্মীরা যুক্ত রয়েছেন বলে দাবি করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম। তবে সম্মানহানীর ভয়ে কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নিয়ে সামনে এগিয়ে না আসায় কারো বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যাচ্ছে না বলে বক্তব্য দেন তিনি।

পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কিছু প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় এসব তথ্য জানান।

গত ১৪ অগাস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় কয়েক ঘণ্টার অভিযানের পর তাকে র‍্যাব হেফাজতে নেয়া হয়। অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ মদ ছাড়াও এলএসডি ও আইসের মতো মাদক উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‍্যাব দাবি করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয় এবং চারদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দফায় আরো দুদিনের রিমান্ডে নেয়া হয় তাকে।

সাম্প্রতিক অভিযানে আরো কয়েকজন মডেল ও চলচ্চিত্র শিল্প সংশ্লিষ্ট লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের বিরুদ্ধেও মাদক ও পর্নোগ্রাফির অভিযোগ আনা হয়।

পরবর্তী কয়েকদিন এসব নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নানা প্রতিবেদন প্রকাশ করে বাংলাদেশের গনমাধ্যমগুলো, যেগুলোর কয়েকটিতে পুলিশের বরাত দিয়ে খবর প্রকাশিত হয় যে, নায়িকা ও মডেলদের সঙ্গে যাদের যোগাযোগ বা সম্পর্ক ছিল, তাদের তালিকা তৈরি করছে পুলিশ।

মঙ্গলবার পুলিশ কমিশনার মোঃ শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, এইরকম কোন তালিকা পুলিশ করছে না। তবে এই তালিকার খবরকে ব্যবহার করে ‘একটি চক্র’ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা নিচ্ছে।।

”অনেকেই ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়িতে থাকা বন্ধ করে দিয়েছে। আমাদের কাছে জানতে চাইছে, ভাই আমি কি বাড়িতে থাকবো? কেন? আমাকে তো ওমুক মিডিয়া থেকে ফোন করা হয়েছে যে, পরীমনি নাকি আমার নাম বলেছে। অথবা পিয়াসা আমার নাম বলেছে। আমি কি বাড়িতে থাকবো?”

“আমাদের কাছে, আমাদের মন্ত্রী মহোদয়ের কাছেও অভিযোগ করেছেন যে, তার কাছে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। আপনি যদি আমাকে এই পরিমান অর্থ না দেন, তাহলে আমাদের কাছে আপনার বিরুদ্ধে যে তথ্য আছে, সেটা দিয়ে নিউজ করে দেয়া হবে।”

পরীমনির মামলার কথা উল্লেখ করে পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ”এখন মামলাটি সিআইডি তদন্ত করছে। আমি সিআইডি চিফের সঙ্গে কথা বলেছি। উনিও পরিষ্কারভাবে বলেছেন, এই ধরনের কোন তালিকা তৈরি করার অথবা কাউকে অ্যারেস্ট করার কোন আইনগত ভিত্তি নেই এবং এই ধরনের কোন কাজ পুলিশের কোন সংস্থা করছে না।”

”এসব নিউজ করলে সামাজিকভাবে হয়তো তাকে হেনস্থা করা হবে, কিন্তু আইনগতভাবে উনি কোন অপরাধ করেছেন বলে আমি মনে করি না,” বলেন ঢাকা পুলিশের কমিশনার। এরকম কোন বিষয়ে তারা তদন্ত করছেন না বলেও উল্লেখ করেন মি. ইসলাম ।

যারা এই চাঁদাবাজি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হবে কি? সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে মি. ইসলাম বলেন, ”মুশকিল হলো, যে ব্যক্তির কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছে, উনি তো প্রকাশ্যে আসতে চাচ্ছেন না। সামাজিক মর্যাদার ভয়ে তিনি মামলা করছেন না।”

”এখন যদি উনি মামলা করেন, তাহলে (তার ভয়) জানাজানি হয়ে যাবে যে, আমার সঙ্গে (ওই ব্যক্তির) নিশ্চয়ই তার সঙ্গে (নায়িকা বা মডেল) নিশ্চয়ই তার কোন সম্পর্ক ছিল, সেইজন্য আরেকজন এটা ব্যবহার করে কিছু চাঁদা নিয়ে গেছে। ফলে ওনার যে সামাজিক অবস্থান, সেই কারণে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের শিকার হলেও, তিনি মামলা করছেন না। যেহেতু কোন মামলা নেই, আমরা কীভাবে ব্যবস্থা নেবো?”

এই ব্ল্যাকমেইলিংয়ের পেছনে বিভিন্ন সংস্থার, যেমন সাংবাদিক ও পুলিশেরও কোন কোন সদস্য জড়িত রয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু সরাসরি কেউ অভিযোগ না করায় তারা ব্যবস্থা নিতে পারছেন না বলে দাবি করেন মি. ইসলাম।

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে যে, তিনি গোয়েন্দা পুলিশে মামলার তদারকি কর্মকর্তা থাকার সময় চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন।

এ নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজের ছবি ও ভিডিও প্রচার করা হয়েছে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে। সেখানে বলা হয়, একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে করা মামলার তদারিক কর্মকর্তা থাকার সময় ওই চিত্রনায়িকার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান পুলিশ কর্মকর্তা।

এসব খবরখবর নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে উঠলে মি. সাকলায়েনকে গোয়েন্দা বিভাগ থেকে বদলি করে দেয়া হয়।

তবে মি. সাকলায়েনের সঙ্গে পরীমনির মামলাগুলোর কোন সম্পর্ক নেই বলে বলছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার।

তবে এসব ঘটনায় পুলিশ বিব্রত বলে স্বীকার করে মি. ইসলাম। তিনি বলেন, “একজন বিসিএস ক্যাডার অফিসার এই ধরনের একটা অনৈতিক সম্পর্কে জড়াবেন, এটি কখনোই প্রত্যাশিত না। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ‘যৌন আক্রমণ ও হত্যা চেষ্টার’ অভিযোগ তোলার পর সম্প্রতি আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন ঢাকার চলচ্চিত্রের আলোচিত নায়িকা পরীমনি।

ঢাকার বোট ক্লাবে মধ্যরাতে ‘যৌন আক্রমণ ও হত্যা চেষ্টা’র অভিযোগ এনে একজন ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে প্রথমে ফেসবুক লাইভে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। পুলিশ নাসির ইউ আহমেদ নামে ওই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করে এবং তার বাসা থেকেও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের দাবি জানায়। পরে তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং এক পর্যায়ে জামিনে মুক্তি দেয়া হয়।

পরবর্তীতে দেখা গেল, পরীমনিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হলো এবং তার বাসা থেকে বিপুল পরিমান মাদক উদ্ধারের দাবি করা হলো।

ব্যবসায়ী নাসির ইউ আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পর পরীমনি পুলিশের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকে বলেছিলেন যে, মদ্যপানের অভ্যাস তার নেই এবং বোট ক্লাবে জোর করে তার গলায় মদ ঢেলে দেয়া হয়েছিলো।

কিন্তু পরীমনিকে গ্রেপ্তারের পর র‍্যাব সংবাদ সম্মেলন করে বলেছে, পরীমনি আগে থেকেই অ্যালকোহলে আসক্ত এবং তার বাসা থেকে ১৯টি বিদেশি মদের বোতল তারা উদ্ধার করেছে।

বুধবার বাসায় সাড়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযানের পর রাত সোয়া আটটার দিকে পরীমনিকে গাড়ীতে করে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে যায় র‍্যাব। রাতেই ঢাকার সিনেমার একজন প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকেও আটক করে।

পরে পরীমনি ও আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মাদক আর নজরুল ইসলাম রাজ ও সবুজ আলীর বিরুদ্ধে মাদক ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা করা হয়।

সংবাদটি শেয়ার করে সবাই কে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের আরো খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত  © ২০২১ সবার কন্ঠ
Design & Developed BY:Host cell BD
ThemesCell