২রা মার্চ, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার, রাত ১১:২৪
ব্রেকিংনিউজ :

ধর্ষণের শিকার তরুনীর আত্নহত্যায় ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ২

সবারকন্ঠ রিপোর্ট
  • আপডেট : জুন, ৭, ২০২২, ১০:৩২ অপরাহ্ণ
  • ১৫৩ ০৯ বার দেখা হয়েছে
ধর্ষণের শিকার তরুনীর আত্নহত্যায় ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ২

বন্দরে ধর্ষণের শিকার রুপা (২২) আত্মহত্যার ঘটনায় কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মোমেন কচি (৫২)সহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৬ জুন ও ৭ জুন বন্দর উপজেলার ফরাজিকান্দা ও আলীনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মৃত আনিছুজ্জামান মিয়ার ছেলে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মোমেন কচি (৫২) ও মৃত আউয়াল মিয়ার ছেলে দবির চৌধূরী (৪৫)।

 

এর আগে গত ৬ জুন দুপুরে ধর্ষিতা আতহননকারি যুবতীর মা রিনা বেগম বাদী হয়ে লম্পট ধর্ষক নুরুল আমিন ও তার স্ত্রী শ্যামলি বেগম ও স্থানীয় মেম্বার কচিসহ সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন তৎসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা। নং- ১২(৬)২২।

 

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা বন্দর থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল আলম পাটুয়ারী গ্রেফতারকৃত মেম্বার কচি ও দবিরকে উল্লেখিত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করছে।

 

তথ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ২ বছর ধরে বন্দর উপজেলার বালিয়াগাও এলাকার মৃত জামির খানের লম্পট ছেলে নুরুল আমিন একই এলাকার দিনমজুর রওশন জামিল ওরফে বিষু মিয়ার যুবতী মেয়ে রুপা সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে মধ্যবয়সী লম্পট নুরুল আমিন বিভিন্ন সময়ে নিরিহ যুবতীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করে। এর ধারাবাহিকতায় গত ২২মে সকাল পৌনে ১১টায় প্রতিদিনের মত ভুক্তভোগী যুবতী পিতা ও মাতা কাজে যাওয়ার সুবাদে ওই সময় লম্পট নুরুল আমিন ওই যুবতীর বসত বাড়িতে প্রবেশ করে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ভাবে ধর্ষন করে। পরে ধর্ষিতা লম্পট মধ্যবয়সী ধর্ষক নুরুল আমিনকে বিয়ে করার কথা বললে ওই সময় লম্পট বিয়ে করতে অস্বিকার করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে গত ২ জুন লম্পট নুরুল আমিনকে আসামী করে বন্দর থানায় ৫(৬)২২ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করে।

 

এ ব্যাপারে আত্মহননকারি যুবতীর মা মর্জিনা বেগম জানান, আমি গৃহপরিচারিকা হিসেবে কাজ করি। আমার স্বামীও দিনমজুর। আমরা কাজে গেলে ওই সুযোগে লম্পট নুরুল আমিন আমার ঘরে আসে। পরে আমার মেয়েকে বিয়ে করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে একাধিকার ধর্ষন করে। এ ব্যাপারে আমি বাদী হয়ে গত ৫ দিন পূর্বে লম্পট নুরুল আমিনকে আসামী করে বন্দর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করি। এর ধারাবাহিকতায় গত ৫ জুন রোববার সন্ধ্যায় ধর্ষনের বিষয়টি মিমাংশার জন্য ধর্ষকের বাড়িতে বিচার শালিশী বৈঠক বসায় কলাগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার আব্দুল মোমেন কচি, ধর্ষকের ভাগ্নে ইব্রাহীম, পলাশ, ইহাফিল, বাবুল ও দিবর হোসেনসহ স্থানীয় এলাকার কতিপয় ব্যাক্তিবর্গ। পরে ধর্ষিতা ও তার  পিতা মাতাকে ওই বৈঠকে ডেকে এনে নানা ভাবে অপমান করে ধর্ষিতা সম্মান ক্ষুন্ন করে। ওই সময় ধর্ষকের স্ত্রী শ্যামলী ও ভাগ্নে ইব্রাহিমসহ উল্লেখিত আসামীরা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে ধীর্তার সম্মান নষ্ট করে। এ ঘটনায় ধর্ষিতা রুপা গত ৬ জুন সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় নিজ ঘরের আড়ার সাথে ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে।

 

এ ব্যাপারে বন্দর থানার অফিসার ইনর্চাজ দীপক চন্দ্র সাহা জানান, যুবতী আত্মহত্যার ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্থানীয় মেম্বার কচিসহ ২ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের অভিযান অব্যহত রয়েছে।

 

 

সংবাদটি শেয়ার করে সবাই কে দেখার সুযোগ করে দিন

এ বিভাগের আরো খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত  © ২০২১ সবার কন্ঠ
Design & Developed BY:Host cell BD
ThemesCell